হাতিবাগান বিশেষভাবেই ছিল বাংলা বইয়ের বাজার। বিয়ের পদ্য, থিয়েটারের হ্যাণ্ডবিল, কিছু বটতলা, গরাণহাটা, আহিরিটোলার চোথা বই পর্যন্ত এদের কাছে পাওয়া যেত। এতই মুখ ছিলুম যে তার কোনাে দামই তখন দিইনি। একবার অর্ধেন্দুশেখর নাট্য পাঠাগারের ছাপমারা প্রায় সত্তরআশিখানা অত্যন্ত পুরনাে কাব্য আর নাটক এদের কাছে এল। তাদের নামধাম আমার অজানা। আমি তাে যাকে বলে বাশবনে ডােম কানা! শেষ কালে তা থেকে নারাণবাবুই পনের-যােলখানি বেছে দিয়ে বলেছিলেন, সবগুলাে বই যদি নেন তাহলে নাটকের বেলায় একটাকা আর পদ্যের বই আটখানা হিসেবে পড়বে—নেবেন? আমি নিতে পারিনি। বিনােদিনী দাসীর কবিতার বইও এরা দিয়েছিলেন, কিন্তু লেখনী পুস্তিকা ভার্যা পরহস্তগত হলে আর তাে ফেরত আসে না। তাই এখন আর কাছে নেই।
কলকাতার সরকারি সংস্কৃত পাঠশালার ন্যায়শাস্ত্রের বিদ্যার্থী শ্রীঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভূগোলখগোলবর্ণনম্’-এর সানুবাদ আত্মপ্রকাশ ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় ব্রতী ব্যক্তিদের কাছে এক অমূল্যরতন। মূলত পাকেপ্রকারে বাধ্য হয়ে ‘ভুগোলখগোল’ বর্ণনায় হাত দিলেও প্রাচ্যবিদ্যার সঙ্গে পাশ্চাত্যবিদ্যার পাশাপাশি আলোচনা এবং তাকে নিজের অধীত বিদ্যার জারকরসে সিঞ্চিত করে পাঠকের দরবারে ঈশ্বরচন্দ্র এখানে উপস্থিত করেছেন। গভীর অধ্যায়নের স্বাক্ষর এই গ্রন্থ তাঁর নতুন জীবন-ভাষ্য রচনায় পথপ্রদর্শক হবে নিঃসন্দেহে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, ভারতের বিভিন্ন ভৌগোলিক ভাষায় এইবার এই গ্রন্থ অনুবাদ-সাহিত্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে_যে কাজের পথপ্রদর্শক হয়ে রইলেন অধ্যাপক অমিত ভট্টাচার্য।