Categories


শেকসপিয়ার রন্তভান্ডার

একটি শেকসপিয়ার রন্তভান্ডার।যেখানে সঙ্কলিত হয়েছে শেকসপিয়ারের নাটক ও কবিতা থেকে নেওয়া দেড় শতাধিক উদ্ধতি। নিবার্চনের কাজটি করেন শেকসপিয়ার 
বার্থপ্লেস ট্রাষ্টের পরিচালক লেডি ফক্স।


তিন মাস্কেটিয়ার (হার্ডকভার)

থ্রি মাস্কেটিয়ার্স (ফরাসি: Le Trois Mousquetaires,ইংরেজি: The Three Musketeers) ফরাসি ভাষায় আলেকজান্ডার দ্যুমা রচিত উপন্যাস। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৪ সালে। উপন্যাসটির নায়ক দ্য আরতাঁনা, অ্যাথোস,পার্থোস এবং আরামিস। এই উপন্যাসটির ধারাবাহিকতায় আরো দুইটি গ্রন্থ রচনা করেছেন আলেকজান্ডার দ্যুমা। এর মধ্যে একটি "ম্যান ইন দ্যা আয়রন মাস্ক" চরিত্রের কারণে বিখ্যাত দ্য ভিকম্‌তে ডি ব্রাগেলোঁ, বাংলায় যার অর্থ "দশ বছর পর"।


এ টেল অভ ‍টু সিটিজ

এ টেল অব টু সিটিজ (A Tale of Two Cities) ইংরেজ ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের লেখা একটি উপন্যাস। ফরাসি বিপ্লবের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে নাম ভূমিকায় লন্ডন ও প্যারিস শহরকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। এছাড়াও উপন্যাসটিতে ফরাসি বিপ্লব শুরুর সময়ে ফ্রান্সের চাষিদের দুর্দশার কথা, বিপ্লবের প্রথম বছরগুলোয় বিপ্লবীদের নিষ্ঠুরতা এবং একই সময়ে লন্ডনের জীবনের সঙ্গে নানা পার্থক্যের কথা তুলে ধরা হয়। মূলত এ সময় কিছু মানুষের জীবনকেই এ উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। অনেকে বলে থাকেন, উপন্যাসটিতে চার্লস ডিকেন্সের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনার প্রতিচ্ছবি রয়েছে। ৪৫ অধ্যায়ের এ উপন্যাসটি ১৮৫৯ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩১ সপ্তাহ ধরে প্রকাশিত হয়। অতি জনপ্রিয় এই উপন্যাসের কাহিনীকে ভিত্তি করে এ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে সিনেমা। বহুবার এটি প্রচারিত হয়েছে রেডিওতে এবং টেলিভিশনে। বানানো হয়েছে অনেক নাটক। এমনকি ১৯৫৭ সালে মঞ্চনাটক হিসেবেও উপন্যাসটির কাহিনী পরিবেশিত হয়েছিল। এ পর্যন্ত ‘এ টেল অব টু সিটিজ’ বিক্রি হয়েছে দুইশ’ মিলিয়নেরও বেশি কপি।সারা পৃথিবীতে অনুবাদ হয়েছে পঞ্চাশেরও বেশি ভাষায়


শিকার ও অন্যান্য গল্প

গল্পটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকায় বেড়ে উঠেছে। জঙ্গলঘেরা দূরবর্তী এক পাহাড়ি গ্রামে খাদ্যঘাটতি, সার্বিক দারিদ্র্য আর সক্ষম লােকদের যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার কারণে বিরান অঞ্চল- এই হচ্ছে যুদ্ধের অভিঘাত। সেইখানে হতদরিদ্র এক পরিবারের কিশাের ছেলে ও তার বালক ছােট ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ হয় কালাে আমেরিকান এক পাইলটের। যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে জঙ্গলে পড়লে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এই বিমান-যােদ্ধাকে গ্রামের লােকেরা বন্দী করে রাখে এক কুঠুরির মধ্যে। সেইখানে অপরিচিত হিংস্র কোনাে পশুকে যেমনভাবে দেখা হয় তেমন দৃষ্টিতেই দেখা হয় ঐ বৈমানিককে; কিন্তু তারই মধ্যে এক মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে ঐ কিশাের আর বৈমানিকের মধ্যে। কারাে কথা কেউ বােঝে না, তবুও অদৃশ্য এক মানবিক সম্পর্কের কারণে ঐ বৈমানিককে মারা হােক তা চায় না গল্পের কিশাের নায়ক। তবুও যােগাযােগের গভীর সমস্যায় আক্রান্ত এই দুই পক্ষের ভুল বুঝাবুঝির কারণে এই কিশােরকে জিম্মি হিসেবে আটকে ফেলে কালাে আমেরিকান বৈমানিক। এই অতিশয় মানবিক কাহিনীই হচ্ছে ‘শিকার’ গল্পটির উপজীব্য। এর সঙ্গে সংযােজিত হলাে লেখকের আরাে দুটি গল্প- ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ‘আসমানী ভূত আঘবি' এবং ১৯৮০ সালে প্রকাশিত ‘রেন-ট্রি।


আমার নাম লাল

সূচিপত্র
* আমি এক মৃতদেহ
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমি কুকুর
* আমাকে খুনি বলা হবে
* আমি তোমার প্রিয় মেসো
* আমি ওরহান
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমি এন্থার ফেরিওয়ালী
* আমি,শেকুরে
* আমি একটি গাছ
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমার নাম প্রজাপতি
* আমার নামা সারস
* আমার নাম জলপাই
* আমি এস্থার
* আমি,শেকুরে
* আমি তোমার প্রিয় মেসো
* আমাকে খুনি বলা হবে
* আমি এক স্বর্ণমুদ্রা
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমি তোমার প্রিয় মেসো
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমি সেই খুনি
* আমি মৃত্যু
* আমি এস্থার
* আমি,শেকুরে
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমি সেই খুনি
* আমি তোমার প্রিয় মেসো
* আমি,শেকুরে
* আমার রঙ লাল
* আমি,শেকুরে
* আমি ব্ল্যাক
* আমি,শেকুরে
* আমি ঘোড়া
* আমি ব্ল্যাক
* আমি তোমার প্রিয় মেসো
* আমি বলছি, ওস্তাদ ওসমান
* আমি এস্থার
* আমি ব্ল্যাক
* আমি , ওস্তাদ ওসমান
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমার নাম জলপা্ই
* আমার নাম প্রজাপতি
* আমি সারস
* আমি সেই খুনি
* আমি শয়তান
* আমি,শেকুরে
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমরা, দুই দরবেশ
* আমি , ওস্তাদ ওসমান
* আমার নাম ব্ল্যাক
* আমি, এস্তার
* আমি একজন নারী
* আমার নাম প্রজাপতি
* আমার নাম সারস
* আমি জলপাই
* আমি সেই খুনি
* আমি,শেকুড়ে
* কালানুক্রমিক ঘটনা সূচী


সিদ্ধার্থ

পুণ্যস্নান বা ধর্মীয় আচরণের জন্য প্রায়ই সে বাইরে ঘুরে বেড়াত বলে তার শরীরের রঙ তামাটে হয়ে গিয়েছিল। আম্রকুঞ্জে যখন সে খেলা করত কিংবা তার মা তাকে গান শােনাতেন কিংবা তার বাবা পড়াতেন অথবা পণ্ডিত ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে যখন সে থাকত তখন তার দৃষ্টিতে অপূর্ব এক ছায়া খেলা করত। বিদ্বান লােকেদের সাথে সে নানা বিষয় আলােচনা করতে পারত, গােবিন্দের সাথে তর্ক করতে পারত এবং তার সাহচর্যে চিন্তা এবং ধ্যানও করত। সব শব্দের মূল ‘ওম' শব্দটি কীভাবে নিঃশব্দে উচ্চারণ করতে হয় এবং নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় মনের অন্তস্তলে অনুচ্চারিত রেখেও এই কথাটি বলা যায়- তা সে করতে পারত। নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় তার মুখমণ্ডল থেকে একটা জ্যোতি যেন ঠিকরে বের হত।


একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে

ডেক বলতে যা বােঝায় জাহাজে তা ছিল না। মাসটা জানুয়ারি হলেও জাহাজের পানশালার দুটো দিক একেবারে খােলা, জনা তিনেক লােক ঐ পানশালার সামনে দাঁড়ালেই মনে হবে যেন একগাদা লােক দাঁড়িয়ে আছে । গ্রীস দেশের লােকটা কাউন্টারে যে কফি বিক্রি করছিল তা অতি জঘন্য এবং তার ব্যবহারও ছিল অত্যন্ত কর্কশ। ইতালি থেকে আসা এক রাতের যাত্রীরা ছােট ঘরটার প্রায় সব কটা চেয়ার দখল করে নিয়েছিল। তাদের সঙ্গে যােগ দিয়েছিল উনিশ কুড়ি বছরের কয়েকজন আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ স্কুল পড়ুয়া, তারা বিনয়ী হলেও চালচলনে খুব সপ্রতিভ। পানশালা ছাড়া আর যে ঘরটা সাধারণের ব্যবহারের জন্য রাখা ছিল সেটা হল খাবার ঘর। সেখানে প্রথমবার ভােজনের ব্যবস্থা যারা করছিল তারা ঐ পানশালার লােকটার মতাে বদ-মেজাজী। এতদিন গ্রীক সৌজন্যের কথা শুনে এসেছিলাম। এখন মনে হল ওটা তীরভূমিতেই থেকে গিয়েছে। যারা কুঁড়ে, বেকার কিংবা গ্রামের হতাশাগ্রস্ত তারাই বুঝি সৌজন্যবােধ আঁকড়ে ধরে আছে।

 


চোর ও সারমেয় সমাচার

আবার সে স্বাধীনতার প্রাণদায়ী বাতাস বুক ভরে গ্রহণ করল। কিন্তু অসহ্য ভ্যাপসা গরম আর ধূলিমলিন বাতাসে দম প্রায় বন্ধ হয়ে আসছিল এবং পুরনাে নীল রঙের একটি স্যুট ও একজোড়া জুতাে ছাড়া তার জন্য আর কেউই বাইরে অপেক্ষা করছিল। ভেতরের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশাসহ জেলের দরজা যতই তার থেকে পিছু হটে যেতে থাকল, ততই রােদে তেতে-ওঠা রাস্তা, ঘঁাচর্ঘ্যাচ আওয়াজ তুলে চলে-যাওয়া গাড়ি এবং স্থির কিংবা চলমান মানুষের দঙ্গল নিয়ে পৃথিবী তার দিকে ফিরে আসতে লাগল।

 


হুলিয়া খালা ও অনুলেখক

মারিও ভার্গাস ইয়োসার দীপ্তিময় বহুস্তর বিশিষ্ট উপন্যাস পেরুতে লেখকের যৌবনে লিমার পটভূমিতে লেখা, মারিটো নামের এক তরুণ ছাত্র স্থানীয় রেডিও স্টেশনের সংবাদ বিভাগে কঠোর পরিশ্রম করে। দু’জন মানুষের আগমনের ঘটনায় তার জীবন বিঘ্নিত হয়। প্রথমটি হলো সদ্য তালাকপ্রাপ্তা, তার চেয়ে ১৩ বছরের বড় হুলিয়া খালা, যার সঙ্গে সে গোপন প্রণয়ে লিপ্ত হয়। আর দ্বিতীয় হলো বাতিকগ্রস্ত পাণ্ডুলিপি লেখক পেড্রো কামাকো, যার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কটুক্তিতে ভরপুর সোপ অপেরাগুলো নগরীর শ্রোতৃমণ্ডলীকে ক্রীতদাসের মতো গ্রথিত করে রাখে। মস্তিষ্ক বিকৃতির দিকে ধাবিত হতে থাকা পেড্রো তরুণ মারিটোকে তার আস্থাভাজন হিসেবে গ্রহণ করে। নিউইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ-এর দৃষ্টিতে বছরের সেরা ধ্রুপদী সাহিত্য হিসেবে উল্লেখিত হাস্য রসাত্মক, দুষ্টুমীপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত ভার্গাস ইয়োসার এই উপন্যাসটি পেড্রো কামাকোর উত্তেজনায় ভরপুর গল্পগুলোর সঙ্গে মারিটোর গ্রথিত জীবনের গল্প।


এলিজাবেথ এন্ড আফ্‌টার

একদিন এলিজাবেথ ম্যাকেলভীও আগন্তক হয়ে এসেছিলেন এখানে। দীর্ঘ এক শীতের শেষে, বাস্তব এবং রূপক দুই অর্থেই, এক বসন্ত দিনে এই কবরস্থানের খিলান দিয়ে ভেতরে ঢুকেছিলেন তিনি। নিখুঁত, মসৃণ চুনাপাথরের গায়ে হাত রেখে, ঘন, ভেজা ঘাসের ওপর সন্তর্পণে পা ফেলে এগােচ্ছিলেন তিনি। সেদিন আকাশ ছিল পরিষ্কার, নীল ; কচি-কোমল পাতায় সূর্যের আলাে পিছলে পড়ে ঝিলিক দিয়ে উঠছিল। যে গাড়িটিতে তিনি এসেছিলেন, সেটি কোথায় উধাও হয়ে গেছে। গাড়ির চালক খানিকটা তফাতে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিল। এই নতুন পৃথিবীতে তিনি ভাবনার অতলে তলিয়ে গিয়েছিলেন। একদিন তিনিও এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারবেন- এমন একটা ভাবনা স্বভাবতই উকি দিয়েছিল মনে।


ডিসগ্রেস

উইন্ডসর ম্যানশনের বাইরে তার জীবন সম্পর্কে সুরাইয়া কিছুই বলে না। সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, সুরাইয়া তার প্রকৃত নাম নয়। সে যে সন্তান ভূমিষ্ঠ করেছে তার চিহ্ন রয়েছে। এটা হতে পারে যে সে আদৌ পেশাদার নয়। সে এজেন্সির হয়ে হয়ত সপ্তাহে এক অথবা দুই বিকাল কাজ করে এবং বাকি সময় রাইল্যান্ডস অথবা এথলনের উপকণ্ঠে পরিশীলিত জীবন অতিবাহিত করে। যা একজন মুসলমানের জন্য অনিত্যনৈমেত্তিক, কিন্তু বর্তমানে সবকিছুই সম্ভব।


আইল্যান্ডস ইন দ্য স্ট্রীম

জাহাজঘাটা আর ভােলা সমুদ্রের মাঝখানে সরু হয়ে আসা জিহ্বার মতাে দেখতে

যে ভূমিখণ্ড, তার সবচেয়ে উঁচুতে জাহাজের মতাে মজবুত করেই বানানাে হয়েছিল বাড়িটা—তিন-তিনটি হারিকেনকে ও বুড়াে আঙুল দেখিয়েছে। ছায়া দেওয়ার উপযােগী করে রােপণ করা নারকেল চারাগুলাে বড় হয়েছে, বাণিজ্য বায়ুর ধাক্কায় ওরা নুয়ে পড়ে, শুয়ে পড়ে না । দরজা খুলে বের হলে তুমি সামনের পাথুরে বুলি ধরে নিচে নেমে সৈকতের সাদা বালু মাড়িয়ে সােজা গালফ স্ট্রীমে নেমে যা ডােবাতে পার। বাতাস যখন দম বন্ধ করে থাকে, তখন তুমি উপসাগরীয় স্রোতের দিকে তাকালে দেখবে কালচে নীল জমাট জলরাশি।

 


সামরিক সারমেয় কথা

২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কথাসাহিত্যিক মারিও ভার্গাস ইয়োসার বর্তমান অনূদিত উপন্যাসের স্প্যানিশ ভাষায় মূল গ্রন্থ ‘লা সিউদাদ ই লোস পেরয়োস’ প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে; আর তার ইংরেজি ভাষান্তর ‘দ্য টাইম অব দ্য হিরো’ নামে প্রকাশ পায় ১৯৬৩ সালে। মূল স্প্যানিশ বইটির বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘শহর আর কুত্তাগুলো’ যেখানে ইংরেজি নামকরণটি একটু বেমানান ঠেকে। বঙ্গানুবাদে তাই এ বইয়ের নামকরণ করা হলো, ‘সামরিক সারমেয় কথা’। মূল বইটি প্রকাশকালে লেখকের বয়স ছিল ছাব্বিশ। পেরুর রাজধানী লিমা শহরের লিওনসিও প্রাডো সামরিক আবাসিক স্কুলে পাঠরত অবস্থায় শারীরনির্যাতন আর চরিত্রহীনতার যে দুঃসহ অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছিল এই বইয়ের প্রেক্ষিতে তারই তিক্ত প্রতিফলন দুর্নিবার। তৎকালীন সামরিক কর্তাব্যক্তিরা অবশ্য এই উপন্যাসকে রেহাই দেয়নি, শহরের মাঝখানে তূপাকৃতি করে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। যাই হোক, এই আত্মজৈবনিক উপন্যাসের প্রতিটি পরিচ্ছেদ এতটাই সচেতনভাবে সাজানো যে প্রধান এক চরিত্রের প্রকৃত পরিচয় শেষতক গোপন রেখেছিলেন লেখক। আশা করি বাংলায় অনূদিত এই বইয়ের নিবিড়পাঠ পাঠকের ভালোলাগার সাথে সাথে তাকে ভিন্নতর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করবে।


জননায়ক

প্রাঙ্গণের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ-ছটা দল নৃত্য পরিবেশন করছে। জনপ্রিয় ‘ইগাে উইমেন্স পার্টি’ দামী আক্ৰা কাপড়ের ইউনিফর্ম পরেছে । প্রচুর হইচই সত্ত্বেও আপনি তাদের একক সঙ্গীতশিল্পীর উচ্চনাদী কণ্ঠ শুনতে পাবেন, যাকে তারা প্রশংসা করে বলে গ্রামার-ফোন। ব্যক্তিগতভাবে আমি আমাদের মেয়েদের নাচ নিয়ে তেমন আগ্রহী নই। কিন্তু গ্রামার-ফোন যখন গাইবে তখন আপনাকে শুনতেই হবে। সে এখন মিকাহ-র সৌন্দর্যের প্রশংসা করছে, সে তার তুলনা করছে নিখুঁত, খােদিত ঈগলের ভাস্কর্য-সৌন্দর্যের সঙ্গে, তার জনপ্রিয়তা দূরগামী পরিব্রাজকের মতাে ঈর্ষণীয়, যে তার গমনপথে কোনােক্রমেই শত্রুতা তৈরি করে না। মিকাহ মানে অবশ্যই চীফ দ্য অনারেবল এমএ নাঙ্গা এমপি।


বহিরাগত

বৃদ্ধাবাসটি বাস রাস্তা থেকে দু’কিলােমিটার দূরে এক গ্রামে। আমি পথটা হাঁটলাম । বৃদ্ধাবাসে পৌছানাে মাত্র আমি মা-কে দেখতে চাইলাম। দারােয়ান জানাল, আগে বৃদ্ধাবাসের পরিচালকের সঙ্গে দেখা করুন। পরিচালক তখন কর্মব্যস্ত, তাই অপেক্ষা করতে হল। অপেক্ষা করার সময়ের পুরােটাই দারােয়ান নানা কথা বলতে থাকল। অবশেষে এল পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পালা। তিনি তার অফিসে আমাকে ডেকে পাঠালেন । ঈষৎ বয়স্ক, লিজিয় দ্য অনার-এ (রাষ্ট্রীয় সম্মান) ভূষিত মানুষ। একটু বেশিক্ষণ সােজা তাকিয়ে আমাকে দেখলেন। অতঃপর করমর্দন করে আমার হাতটা এতক্ষণ। ধরে রাখলেন যে কতক্ষণে হাতটা নিষ্কৃতি পাবে অনুমান করতে পারলাম না। একটা ফাইল দেখে বললেন, “মাদাম মেরসল আমাদের এখানে তিন বছর আগে ভর্তি হয়েছিলেন।


দ্য সী

বাড়িটার নাম ছিল সেডারস, অনেক পুরনাে। চারিদিক ঘিরে ছিল বড় বড় গাছ, বানরের গায়ের মতাে বাদামী ছিল ওগুলাের রঙ, গুঁড়িগুলাে এত বিশাল ছিল যে ভয় লাগত, এখনও বাঁদিকে ওদের শাখা-প্রশাখার বাড়-বাড়ন্ত, ওদিকটায় আছে একটা লন, যত্ন নেই, বাড়িটার একটা নক্সা করা জানালাও আছে এদিকে, বসার ঘর হিসেবে ব্যবহার হতে পারত ওটা কিন্তু মিস ভাভাসাের ওটাকে বলতেন মালকিনের ঘর। ওটার উল্টো দিকে ছিল বাড়িটার সদর দরজা, তেলের দাগ ধরা পাথুরে চত্বরের পরে ছিল লােহার একটা গেট, এখনও ওটার রঙ সবুজই আছে, তবে কোথাও কোথাও মরচে ধরে রঙ গেছে চোটে। আমার আশ্চর্য লাগছিল, গত পঞ্চাশ বছরে খুব একটা বদলায়নি কিন্তু শেষবার আমি এখানে এসেছিলাম পঞ্চাশ বছর আগে! আশ্চর্য তাে হচ্ছিলামই, কেমন অস্থিরও লাগছিল, আমি অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম, বলতে গেলে পালিয়েইছিলাম,


সরলা এরেন্দিরা ও অন্যান্য গল্প

দাদিমাকে গােসল করাতে ব্যস্ত এরেন্দিরা, তক্ষুনি দুর্ভাগ্যের কালাে হাওয়া গ্রাস করলাে তাকে। মরুভূমিতে চকচকে উজ্জ্বল চাঁদের মতাে দাদিমার বাড়ি। একাকি দাঁড়িয়ে থাকা সেই প্রাসাদ, ঝড়ের প্রথম আঘাতে ভিত্তিভূমিসুদ্ধ কেঁপে উঠলাে। কেমন এক বন্য দাঢ্যতায় এরেন্দিরা এবং তার বিশাল দাদিমা এসব ঝড় ঝাপটাকে উপেক্ষা করে স্নানের ঘরে ময়ূর পাখিদের ছবির মাঝে, সেই সুন্দর রােমান বাথটাবে সুস্থির মনে নিজেদের কাজে মগ্ন রইলাে।


একটি অপহরণ সংবাদ

আমার পক্ষে যতােটা সম্ভব, সব প্রধান চরিত্রের সাক্ষাৎকার আমি নিয়েছি। প্রতিটি সাক্ষাৎকারে আমি তাদের আন্তরিকতা ও আগ্রহ লক্ষ্য করেছি। যেসব ক্ষতস্থান তারা ঢেকে রাখতে চেয়েছেন তারা তা পুনরায় আমার জন্যে খুলে দিয়েছেন, ভুলে থাকতে চেয়েছেন যেসব স্মৃতি তা পুনরায় স্মরণ করেছেন। এই শেষ বয়সের কাজে, আমার জীবনের সবচেয়ে করুণ ও কঠিন এ কাজে তাদের বেদনা, তাদের ধৈর্য এবং তাদের ক্রোধ আমাকে সাহস যুগিয়েছে। আমার নৈরাশ্য শুধু এ কারণে যে, তারা বাস্তব জীবনে যে ভীতিকর অবস্থার মুখখামুখি হয়েছিলেন তার পুরােটা আমি বইতে ধারণ করতে পারিনি ;


বালতাসার অ্যান্ড রিমুন্দা

অপেক্ষা করুন তিনি। রাতের মত অবসর নেয়ার আগে এখনও নিজেকে প্রস্তুত করছেন রাজা। তার ফুটম্যানরা পােশাক খুলতে সাহায্য করেছে তাকে এবং উপযুক্ত আনুষ্ঠানিক রােব চাপিয়ে দিয়েছে তাঁর গায়ে। প্রত্যেকটা কাপড় এমন শ্রদ্ধার সঙ্গে একহাত থেকে অন্যহাতে যাচ্ছে যেন ওগুলাে হােলি ভার্জিনের রেলিক্স। এই পর্বটুক অন্যান্য ভূত্য আর কিশাের পরিচারকদের উপস্থিতিতে সারা হচ্ছে। একটা বিশাল চেস্টের মুখ খুলে ধরছে একজন; অন্যজন পর্দা টেনে সরাচ্ছে, মোমবাতি উঁচু করে ধরছে একজন, আর আরেকজন সলতে ঠিক করছে; সােজা হয়ে দাঁড়াল দুজন ফুটম্যান, আরও দুজন হাত মেলাল; ওদিকে নির্দিষ্ট কোনও দায়িত্ব ছাড়াই পটভূমিতে জটলা পাকিয়ে আছে আরও বেশ কয়েকজন। দীর্ঘ সময় শেষে, ওদের সম্মিলিত প্রয়াসের কল্যাণে প্রস্তুত হলেন রাজা। উপস্থিত অভিজাতজনদের একজন শেষবারের মত একটা ভঁজ সােজা করে দিল, অন্য একজন ঠিক করে দিল এমব্রয়ডারী করা নাইট শার্ট। এখন থেকে যেকোনও মুহূর্ত ডােম হােয়াও পঞ্চম রানীর বেডচেম্বারের উদ্দেশে পা বাড়াবেন। পরিপূর্ণ হওয়ার প্রতীক্ষা করছে পাত্র।


চিত্রকর্ম ও লিপিকলার সারগ্রন্থ

এমন সময় আসে যখন আমি নিজেকে প্ররােচিত করার চেষ্টা করি যে আমিই টিকে থাকা একমাত্র পােট্রেট চিত্রশিল্পী এবং আমি চলে গেলে কেউই আর এই বিরক্তিকর বৈঠকে একটুও সময় ব্যয় করবে না অথবা সাদৃশ্য অর্জনের সামান্যতম বৃথা চেষ্টাও করবে না, যখন আলােকচিত্র ফিল্টার এবং ইমালশন ব্যবহারের মাধ্যমে একটা শিল্প কাঠামােতে পরিণত হয়েছে, অবস্থাদৃষ্টে উপরিপৃষ্ঠ ভেদ করে মানব সত্তার প্রথম অন্ত:স্তর প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সেটাকে অনেক বেশী কার্যকরী প্রতীয়মান হয়। এই ভাবনাটা আমার হাসির কারণ ঘটায় যে আমার পতন প্রবণতার কারণে আমি একটি অধুনালুপ্ত শিল্পকলার পশ্চাদ্ধাবন করে ফিরছি, যেটা ধন্যবাদের যােগ্য,

 


একান্ত বিষয়

শিউরে উঠে ম্যাপের বিস্তারিত দেখার জন্যে তাকাল বার্ড। আফ্রিকাকে ঘিরে থাকা সমুদ্রের রঙ দেয়া হয়েছে শীতের ভােরের আকাশের জলাে নীল। অক্ষাংশ আর দ্রাঘিমাংশ কম্পাসে আঁকা যান্ত্রিক রেখা নয়: চওড়া টানগুলাে শিল্পীর অস্থির মন আর খেয়াল প্রকাশ করেছে। খােদ মহাদেশটাকে দেখাচ্ছে কোনও মানুষের ঝুলিয়ে দেয়া মাথার খুলির মত। শােকার্ত হতাশ চোখের কোনও লােক বিশাল মাথা নিয়ে চেয়ে আছে কোয়ালা, প্লাটিপাস আর ক্যাঙ্গারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ার দিকে। ম্যাপের নীচের দিকের কোণে জনসংখ্যার বণ্টন দেখানাে খুদে আফ্রিকার ম্যাপটিকে পচনশুরু-হওয়া কোনও মরা মানুষের মাথার মত দেখাচ্ছে। রাস্তাঘাট আঁকা আরেকটা ম্যাপ যেন ছাল খসানাে খুলি, রগটগ নির্দয়ভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে।


অনাগত শিশুর জন্য শোকগাথা

‘না’, আমার ভেতর থেকে কেউ তক্ষুণি আপনাআপনি চিৎকার করে ওঠে যখন আমার স্ত্রী (ঘটনাক্রমে এখন সে আর আমার স্ত্রী নয়) প্রথম উল্লেখ করেছিল - তাের কথা- আর আমার গােঙানি কেবল ধীরে ধীরে কমে এসেছে, হ্যা আসলে বহু বছর গড়িয়ে যাওয়ার পরই কেবল, এই গােঙানি শেষনাগাদ পরিণত হয়েছে এক চরাচরব্যাপি বিষাদে, ঠিক যেমনটা সেই বিশ্ববিশ্রুত বিদায় দৃশ্যে উয়ােটানের উন্মত্ত ক্রোধ, অবশেষে উত্তরের আলাের ছায়া থেকে ধীরেধীরে মৃদু অসুস্থতার মতাে একটি প্রশ্ন আমার মধ্যে আকার পেয়েছে আর তা হচ্ছে,