Categories


1Q84

In this world, the fates of two people, Tengo and Aomame, are closely intertwined. They are each, in their own way, doing something very dangerous. And in this world, there seems no way to save them both. 


দেশে বিদেশে

তা সে যাই হােক, সায়েবের সঙ্গে আলাপচারি আরম্ভ হল। তাতে লাভও হল। সন্ধ্যা হতে না হতেই সে প্রকাণ্ড এক চুবড়ি খুলে বলল, তার ‘ফিয়াসে’ নাকি উৎকৃষ্ট ডিনার তৈরি করে সঙ্গে দিয়েছে এবং তাতে নাকি একটা পুরােদস্তুর পল্টন পােষা যায়। আমি আপত্তি জানিয়ে বললুম যে, আমিও কিছু সঙ্গে এনেছি, তবে সে নিতান্ত নেটিব বস্তু, হয়তাে বড় বেশি ঝাল। খানিকক্ষণ তর্কাতর্কির পর স্থির হল সবকিছু মিলিয়ে দিয়ে ব্রাদারলি ডিভিশন করে আ লা কার্ত ভােজন, যার যা খুশি খাবে।


আবুসিম্বাল, পিকাসো ও অন্যান্য তীর্থ

য়ুরােপ যাত্রার পথে বেশ কয়েক বারই সুয়েজ কানাল অতিক্রম করেছি। প্রতি বারই মন্থরগামী জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে, বালুময় দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তের দিকে তাকিয়ে বিষগ্রচিত্তে ভেবেছি, কবে এমন সচ্ছল দিন আসবে, যেদিন আমার বহুকালের স্বপ্ন মিশর দর্শন বাস্তবে রূপায়িত হবে। প্রতি বারই আমার একমাত্র সম্বল ছিল জাহাজের টিকিটটি। তাই প্রায় কুড়ি বছর বাদে যেদিন আমাদের প্লেন কায়রাে বিমান বন্দরের মাটি স্পর্শ করল, সেদিন স্বভাবতই বহুঈশিত এক অভিলাষ পূর্ণ বার পরিতৃপ্তিতে আমার অন্তর নেচে উঠেছিল।


ব্রহ্মলোকে

আদালতের সমন কিংবা পুলিশের পরােয়ানা থেকে যদিওবা ছাড় পাওয়া যায়, হিমালয়ের আমন্ত্রণ উপেক্ষা করা যায় না। আর তা যায় না বলেই আজ আমি হিমালয়ে। সত্যি বলতে কি এবারে আমার হিমালয়ে আসার কোন কথাই ছিল না, পর্বতাভিযান তাে দূরের কথা। থাকবে কেমন করে? আমার এক ফরাসি বােন ভারত দর্শনে এসেছিল। তাকে নিয়ে প্রায় মাসখানেক দক্ষিণ-ভারত ভ্রমণ করেছি। তারপরে বম্বে গিয়ে তাকে বিমানে তুলে দিয়ে সবে দিনদশেক আগে কলকাতায় ফিরেছি। সুতরাং আমার এবছরের ভ্রমণ হয়ে গিয়েছে। বছরে একবারের বেশি বড়-ভ্রমণ হয়ে উঠে না।


হিমালয় ভ্রমণ গাইড

অলকানন্দা বিধৌত শ্রীনগরের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রাজা মহাপতি শা। তার রাজত্বে প্রজারা মােটামুটি সুখস্বাচ্ছন্দ্যে, দিনাতিপাত করতেন। কিন্তু তাঁর উত্তরসূরী দুলারাম, যিনি ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরােহণ করেন, অত্যন্ত শঠ প্রকৃতির নৃপতি ছিলেন। কাতুরিরাজ সুখলাল দেও-এর সঙ্গে কুমায়ুনের রুদ্রাদের সুসম্পর্ক ছিল না। উভয়ে উভয়ের প্রতি বৈরি মনােভাবাপন্ন ছিলেন। দুলারাম সেটা জানতেন। তিনি সুখরামকে চক্রান্ত করে তার বিরুদ্ধে নানাভাবে ইন্ধন যােগাতেন। কুমায়ুনরাজ তখন পারকু-কে গাড়ােয়াল বিজয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুদ্ধে পারকু নিহত হন। এরপর থেকে গাড়ােয়াল ও কুমায়ুনী রাজাদের মধ্যে প্রায়শ যুদ্ধবিগ্রহ চলতে থাকে। ফলে সীমান্ত অঞ্চলগুলি সর্বদা উত্তপ্ত থাকত, গ্রামের মানুষ তাতে অতিষ্ঠ হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। দীর্ঘদিন সেখানকার চাষাবাদ বন্ধ ছিল। মানুষের তখন দুর্দশার অন্ত ছিল না।


শাংগ্রিলার খোঁজে

সবকিছু ঠিকঠাক ছিল, কিন্তু সমস্যা হল চিনা লামাটিকে নিয়ে। এইরকম অভিযানের জন্য যে শারীরিক উদ্যম আর মানসিক সংকল্প লাগে, তা তার ছিল না ; ব্রিটিশ সরকারের দাক্ষিণ্যে বেমওকা প্রমােদভ্রমণ মনে করেই বেরিয়েছিল সে। তিব্বতে ঢােকার পর বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর খােলসের থেকে বেরিয়ে এল এক পানাসক্ত লম্পট। কিন্টুপের সঙ্গে প্রভুর মতােই আচরণ করতে লাগল,


পায়ের তলায় সর্ষে-১ম খণ্ড

খুব ছােটবেলা থেকেই আমার ভ্রমণের নেশা। সব সময় মনে হতাে, এই পৃথিবীতে জন্মেছি, যতটা পারি তা দেখে যাবাে না? কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও পয়সা তাে ছিল না, তাই জমাননা কুড়ি-তিরিশ টাকা হাতে পেলেই চলে যেতাম কাছাকাছি কোথাও। এক সময় জাহাজের নাবিক হবারও স্বপ্ন ছিল আমার। তা অবশ্য হতে পারিনি। তবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত গেছি কয়েকবার। দেশের মধ্যে সব কটি রাজ্যে, পশ্চিমবাংলার মধ্যেও সব কটি জেলা এবং মহকুমা, এমনকী অনেক গ্রামে গ্রামেও ঘুরেছি। কখনাে রাত কাটিয়েছি গাছতলায়, কখনাে নদীর বুকে নৌকোয়, কখনাে পাঁচতারা হােটেলে। এই সব ভ্রমণ নিয়ে লেখালেখিও করেছি অনেক। এখন দেখতে পাচ্ছি সেইসব লেখা জমে জমেও প্রায় পাহাড় হয়ে গেছে।


যমুনোত্তরী হতে গঙ্গোত্রী ও গোমুখ

সুখের হােক বা দুঃখেরই হােক পর্যটক জীবন বিচিত্র। আবার পর্যটনের ফলে যে অভিজ্ঞতা লাভ করা যায় তা বড় কম নয় ; কারও কারও জীবনে তা বড় সম্বল হয়ে থাকে। আমার মনে হয়, এই পবিত্র ভারতভূমির মধ্যে, তীর্থস্থান বলে যেগুলি আছে, সেগুলির কিছুটাও যদি দেখা যায় তাহলে আমাদের মনে সহজেই এ ধারণা প্রবল হয়ে ওঠে যে, সৌন্দর্যের উপাসক আমাদের পিতৃপুরুষেরা কি অসাধারণ উদার, লােককল্যাণের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐ স্থানগুলি তীর্থক্ষেত্র বলে আবিষ্কার এবং চিহ্নিত করে | গেছেন তাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য। চিরশান্তির নিকেতন এই হিমালয় আজও আমাদের আনন্দের উৎস হয়ে আছে, এত দুঃখের মাঝেও।